শীতে ময়েশ্চারাইজার নয়, ত্বকের সজীবতায় ৭টি সেরা খাবার

শীতের শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক তেল শুষে নেয়। এর ফলে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ, প্রাণহীন এবং খসখসে। দামি কসমেটিকস সাময়িকভাবে কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান দেয় না। প্রকৃতিতে এমন কিছু শক্তিশালী খাবার রয়েছে যা ত্বককে ভেতর থেকে ভেজায়। নিচের ইনফোগ্রাফিকটি দেখুন যেখানে সেরা খাদ্যগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে।

শীতে ময়েশ্চারাইজার নয়, ত্বকের সজীবতায় ৭টি সেরা খাবার

উপরের ছবিতে প্রদর্শিত খাবারগুলো ভিটামিন ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ। এগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিক এই উপাদানগুলো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বক সজীব রাখে। শীতকালীন ডায়েটে এই পরিবর্তন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। মনে রাখবেন, সুষম খাবারই সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের আসল চাবিকাঠি।

সূচিপত্রঃশীতে ময়েশ্চারাইজার নয়, ত্বকের সজীবতায় ৭টি সেরা খাবার

শীতে ময়েশ্চারাইজার নয়, ত্বকের সজীবতায় ৭টি সেরা খাবার

শীতের আগমন মানেই উৎসবের আমেজ, কিন্তু আমাদের ত্বকের জন্য এটি বেশ কঠিন সময়। চারপাশের শুষ্ক বাতাস ত্বকের কোমলতা কেড়ে নিয়ে তাকে রুক্ষ করে তোলে। আমরা সাধারণত ত্বকের উপরিভাগে নানা রকম ক্রিম ব্যবহার করি, কিন্তু ত্বকের প্রকৃত স্বাস্থ্য নির্ভর করে আমরা কী খাচ্ছি তার ওপর। শরীরের ভেতরটা হাইড্রেটেড থাকলে এবং সঠিক পুষ্টি পেলে বাইরে থেকে দামী প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আজ আমরা এমন ৭টি প্যারাগ্রাফে বিস্তারিত জানাব যা আপনার শীতকালীন জীবনযাত্রা বদলে দেবে।

পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি

শীতকালে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে আমরা পানি পান কমিয়ে দেই, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কোষের ভেতরে পানির অভাব দেখা দিলে ত্বক কুঁচকে যায়। এই অভাব পূরণ করতে প্রচুর জলীয় অংশ আছে এমন ফল যেমনঃশসা, কমলা ও মাল্টা খাওয়া জরুরি। শসায় থাকা সিলিকা ত্বকের টিস্যু মজবুত করে এবং কমলা ভিটামিন সি সরবরাহ করে। যখন শরীর ভেতর থেকে পর্যাপ্ত পানি পায়, তখন বাইরের রুক্ষতা আপনাআপনি কমতে থাকে। নিয়মিত এসব ফল খেলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। প্রায় ১০০ শব্দের এই অভ্যাসে আপনার ত্বকের টেক্সচার হবে অনেক বেশি মসৃণ।

আরও পড়ুনঃশীতে ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন না কি পেট্রোলিয়াম জেলি 

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও মাছ

শীতের ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাছের তেল বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ত্বকের কোষের প্রাচীর শক্তিশালী করে। এটি ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক সহজে শুকায় না। যারা নিরামিষাশী, তারা তিসির তেল বা ফ্ল্যাক্স সিড ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং লালচে ভাব দূর করে। সামুদ্রিক মাছের নিয়মিত সেবন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা স্থায়ী করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে যা ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন সি-র সুরক্ষা

শীতকালীন ফল যেমন আমলকী, পেয়ারা এবং লেবু ভিটামিন সি-র সেরা উৎস। এই ভিটামিন ত্বকের কোলাজেন প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ত্বককে টানটান রাখে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরিতে এর ভূমিকা অপরিসীম। যখন আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করবেন, তখন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ভেতর থেকে ফুটে উঠবে। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের দাগছোপ দূর করতেও দারুণ কার্যকর।

আরও পড়ুনঃমেয়েদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার ক্রিম

বাদাম ও বীজের পুষ্টি

কাঠবাদাম, কাজুবাদাম এবং আখরোট ভিটামিন ই-র চমৎকার উৎস। ভিটামিন ই ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে বাঁচায় এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে। শীতে ত্বক যখন ফেটে যায়, তখন এই বাদামগুলোর প্রাকৃতিক তেল কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে ত্বকে একটি প্রাকৃতিক আভা তৈরি হয়। বাদামে থাকা সেলেনিয়াম এবং জিংক ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রোবায়োটিক ও দই

হজম প্রক্রিয়ার সাথে ত্বকের স্বাস্থ্যের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয় এবং রক্ত পরিষ্কার রাখে। পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকে ব্রণ বা র‍্যাশের সমস্যা কমে যায়। শীতকালে অনেকে দই খেতে ভয় পান, কিন্তু ঘরের তাপমাত্রায় রাখা দই শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে। নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং ত্বককে করবে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও সতেজ।

আরও পড়ুনঃতৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো

গ্রিন টি ও ডিটক্স

শীতে দুধ-চিনি মিশ্রিত চায়ের বদলে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস করুন। গ্রিন টি-তে থাকা পলিফেনল ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যার ফলে ত্বকের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যাওয়ায় ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় দেখায়। গ্রিন টি ত্বকের অকাল বলিরেখা দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন দুই কাপ গ্রিন টি পান করলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে এবং আপনাকে দেখাবে আরও বেশি তরুণ। এটি ত্বকের ক্লান্তি দূর করতেও দারুণ সহায়ক।

মিষ্টি আলুর বিশেষ শক্তি

শীতের অন্যতম সবজি মিষ্টি আলু ভিটামিন এ বা বিটা-ক্যারোটিনে ভরপুর। এই উপাদানটি ত্বককে একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়, যা রোদে পোড়া বা ঠান্ডায় ফেটে যাওয়া থেকে বাঁচায়। মিষ্টি আলু খেলে ত্বকের শুষ্কতা দ্রুত দূর হয় এবং এটি ত্বকের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দেয়। এটি ত্বকের কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে, ফলে ত্বক সবসময় সজীব থাকে। নিয়মিত মিষ্টি আলু আপনার খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা নিয়ে আপনাকে আর চিন্তিত হতে হবে না। এটি সস্তা কিন্তু ত্বকের যত্নে অত্যন্ত দামী ও কার্যকর একটি খাবার।

শেষ কথাঃশীতে ময়েশ্চারাইজার নয়, ত্বকের সজীবতায় ৭টি সেরা খাবার

সুন্দর ত্বক কেবল বাইরে থেকে যত্ন করার বিষয় নয়, বরং এটি ভেতর থেকে পুষ্টির প্রতিফলন। এই শীতে দামী ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি উপরের ৭টি খাবার আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন আপনার ত্বকের সৌন্দর্যকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। সঠিক খাবার খান, সুস্থ থাকুন এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী হোন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: শীতে ত্বক কেন বেশি শুষ্ক হয়ে যায়?

উ:বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় এটি ত্বক থেকে জলীয় অংশ শুষে নেয়, ফলে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন ২: প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত?

উ:অন্তত ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা উচিত শরীর ও ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে।

প্রশ্ন ৩: কোন ফলগুলো ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো?

উ:কমলা, মাল্টা, পেয়ারা এবং আমলকীর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলগুলো সবচেয়ে বেশি উপকারী।

প্রশ্ন ৪: বাদাম কি ত্বকের তৈলাক্ততা বাড়ায়?

উ:না, বাদামের প্রাকৃতিক তেল ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

প্রশ্ন ৫: চিনি খেলে কি ত্বকের ক্ষতি হয়?

উ:অতিরিক্ত চিনি ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে দেয়, যার ফলে ত্বকে দ্রুত বলিরেখা পড়ে।

প্রশ্ন ৬: গ্রিন টি কখন পান করা ভালো?

উ:সকালে বা বিকেলের নাস্তার পর গ্রিন টি পান করা সবচেয়ে ভালো, তবে খালি পেটে না খাওয়াই শ্রেয়।

প্রশ্ন ৭: শীতে ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায় কী?

উ:প্রচুর পানি পান করা, শাকসবজি খাওয়া এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা সবচেয়ে বড় উপায়।

প্রশ্ন ৮: মিষ্টি আলু কীভাবে ত্বককে সাহায্য করে?

উ:এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন ৯: দই কি শীতকালে খাওয়া নিরাপদ?

উ:হ্যাঁ, তবে সরাসরি ফ্রিজ থেকে বের করে না খেয়ে ঘরের তাপমাত্রায় আসার পর খাওয়া ভালো।

প্রশ্ন ১০: ত্বকের যত্নে মাছের তেলের ভূমিকা কী?

উ:মাছের তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং প্রদাহ কমিয়ে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url